স্বপ্নচূড়া গ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাকাল ও প্রেক্ষাপট:
“১টি বই, ১টি লাইব্রেরি” তত্ত্বটির বাস্তবিক রূপই আজকের “স্বপ্নচূড়া গ্রন্থাগার”। ঐতিহ্যবাহী বিঝারী উপসী তারা প্রসন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২২ সালের ১৮ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর হাত ধরে ৩০ মে ২০২২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে গ্রন্থাগারটি। ভৌগলিকভাবে গ্রন্থাগারটির অবস্থান শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থানার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের অন্তর্গত উপসী গ্রামে।
বর্তমানে ১টি কোচিং সেন্টারকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হলেও গ্রন্থাগারটির রয়েছে নিজস্ব সংবিধান বা গঠনতন্ত্র যা অনুসরণ করেই সম্পাদিত হয় সকল কার্যক্রম। ১৩ অক্টোবর ২০২২ তারিখ পর্যন্ত গ্রন্থাগারটিতে রয়েছে ১টি বুক শেল্ফ, ১৫৬ টি বই এবং ৮৯ জন সদস্য।
সদস্য ও বই বিনিময় প্রক্রিয়া:
১টি বইয়ের বিনিময়েই পাওয়া যায় সদস্যপদ তবে সদস্য কিংবা সদস্য বহির্ভূত যেকেউই নির্দিষ্ট কিছু বিধান অনুসরণ করে গ্রন্থাগার থেকে বই নিয়ে পড়তে পারে। বই নেয়ার পূর্বশর্ত হচ্ছে একজনকে অবশ্যই লাইব্রেরী কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। লাইব্রেরি কার্ড পেতে আপনাকে এ গ্রন্থাগারে কমপক্ষে একটি বই প্রদান করতে হবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
ক্ষুদ্র পরিসরে পরিচালিত এই গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে অবাধ স্বপ্ন- একদিন স্থায়ী ঠিকানা হবে, হাজারো বই থাকবে, পাঠক হবে সীমাহীন এবং সর্বোপরি তৈরি হবে সাহিত্য চর্চার এক অনন্য ক্ষেত্র।
স্বপ্নচূড়া গ্রন্থাগার একদিন স্বপ্নচূড়া ফাউন্ডেশন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এ ফাউন্ডেশন স্বপ্নচূড়া গ্রন্থাগার পরিচালনার পাশাপাশি দরিদ্র মানুষকে সহায়তা ও রক্তদাতা ও গ্রহীতাদের নিয়ে কাজ করবে।
প্রেক্ষাপট: শরীয়তপুরের কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পর্যবেক্ষণ করে পরিলক্ষিত হয় মূলত গণিতের প্রতি ভীতি এবং দুর্বোধ্য মনে হওয়ার কারনে পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞানের বিষয়গুলোতে পড়াশোনার ব্যাপারে তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তাই গণিত কে সহজভাবে সবার কাছে তুলে ধরে গণিত শিক্ষায় আগ্রহী করে তোলার জন্য কতগুলো কার্যক্রম নিয়ে ২০২১ সালে শরীয়তপুর ম্যাথ সার্কেল তাদের যাত্রা শুরু করে।
সংগঠনের স্লোগানঃ নেই কোন সংশয়, গণিত করবো জয়। গণিতের ভাষাতে রাখবো, শরীয়তপুরের পরিচয়।
সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: সংগঠনের উদ্দেশ্যঃ শরীয়তপুর ম্যাথ সার্কেল এর মূল উদ্দেশ্য মূলত বিজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে তোলা। শরীয়তপুরের কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পর্যবেক্ষণ করে পরিলক্ষিত হয় মূলত গণিতের প্রতি ভীতি এবং দুর্বোধ্য মনে হওয়ার কারনে পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞানের বিষয়গুলোতে পড়াশোনার ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তাই গণিত কে সহজভাবে সবার কাছে তুলে ধরে গণিত শিক্ষায় আগ্রহী করে তোলার জন্য কতগুলো কার্যক্রম নিয়ে ২০২১ সালে শরীয়তপুর ম্যাথ সার্কেল তাদের যাত্রা শুরু করে। শরীয়তপুরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষার্থীদের বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তিনটি লক্ষ্য কে সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছে ক্লাবটি।
প্রথমত লক্ষ্য হলো শরীয়তপুরের সবগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরকে ম্যাথ প্রতিযোগিতা সহ অন্যান্য প্রতিযোগিতা সম্পর্কে অবহিত করা। ফিল্ড ওয়ার্কে এটা পরিলক্ষিত হয় অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের ম্যাথ কিংবা অন্য কোনো অলিম্পিয়াড সম্পর্কে তেমন কোন ধারণাই নেই যার ফলে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা থাকা সত্যেও তারা কোন ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করছে না। তাই সংগঠনটির প্রথম উদ্দেশ্য অলিম্পিয়াড সম্পর্কে অবহিত করা এবং বহুল প্রচারের মাধ্যমে সবার মধ্যে অলিম্পিয়াডের আগ্রহের সৃষ্টি করা। দ্বিতীয় লক্ষ্য হলো জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক গনিত অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণে প্রস্তুতির জন্য তথ্য এবং রিসোর্স দিয়ে সহযোগিতা করা এবং প্রয়োজনীয় ম্যাথ ক্যাম্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিতে সহযোগিতা করা। তৃতীয়তঃ আগ্রহী শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহন শেষে অলিম্পিয়াডের বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রদানের লক্ষ্যে জাতীয় ম্যাথ অলিম্পিয়াডের অনুকরণে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা এবং যথাসম্ভব মূল্যায়ন করা।
সংগঠনের বর্তমান কার্যক্রম :শরীয়তপুর ম্যাথ সার্কেল এর বর্তমান কার্যক্রমঃ শরীয়তপুর ম্যাথ সার্কেল ২০২১ সাল থেকে জেলাব্যাপী কয়েকটি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। করোনাকালীন সময়ে অনলাইনে ম্যাথ ক্যাম্প সম্পন্ন করে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রথম প্রতিযোগিতা টি অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে শরীয়তপুরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ২০০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করে।২০২২ সাল থেকে ক্লাবটি বড় পরিসরে জেলাব্যাপী কার্যক্রম শুরু করে, জেড এইচ সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শরীয়তপুরস্থ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় শরীয়তপুরের সবগুলো উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে ক্যাম্পেইন এবং ম্যাথ ক্যাম্প পরিচালিত হয় এবং ১০০০ জন প্রতিযোগী নিয়ে ১৭ অক্টোবর ২০২২, ২য় শরীয়তপুর ম্যাথ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হবে। সংগঠনের ভবিষ্যত পরিকল্পনাশরীয়তপুর ম্যাথ সার্কেল এর মূল উদ্দেশ্য কে বাস্তবায়নের জন্য প্রথম লক্ষ্য শতভাগ শিক্ষার্থীদের অলিম্পিয়াড সম্পর্কে সাধারন ধারণা প্রদান এবং আগ্রহী করে তুলতে ব্যাপক ভাবে ক্যাম্পইন করা এবং পর্যাপ্ত ম্যাথ ক্যাম্পের আয়োজন করা। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ভাবে শরীয়তপুর কে সমুন্নত করাই ক্লাবটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। শরীয়তপুর জেলাবাসীদের জন্য সংগঠনের বিশেষ কার্যক্রম:আমাদের সংগঠনের প্রথম উদ্দ্যেশ্য শরীয়তপুর জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা। সংগঠনের সাথে যোগাযোগ তথ্যhttps://www.facebook.com/shariatpurmathcircle/shariatpurmathcircle@gmail.com+8801926841150
শরীয়তপুর ম্যাথ সার্কেল এর উদ্যোক্তা পরিচিতিপারিবারিক: শরীয়তপুর ম্যাথ সার্কেল এর প্রধান উদ্যোক্তা এবং প্রতিষ্ঠাতা ডি এম জাহিদুল ইসলাম, পিতাঃ মোহাম্মদ হোসেন দেওয়ান, মাতাঃ হাসিনা বেগম, গ্রামঃ চরমহিষখালী মৃধা কান্দি, সখিপুর, শরীয়তপুর। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানঃ জেড এইচ সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বি এস সি ইন কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং , উচ্চমাধ্যমিকঃ নর্দান কলেজ বাংলাদেশ মাধ্যমিকঃ চর ভয়রা উচ্চ বিদ্যালয় বর্তমান পেশাঃ ডাটা এনালাইষ্ট উপদেষ্টা কমিটিঃপ্রধান উপদেষ্টাঃ অধ্যাপক ড. তালুকদার লোকমান হাকিম, উপাচার্য, জেড এইচ সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। উপদেষ্টাঃ হযরত আলী, সহকারী অধ্যাপক, ফলিত গনিত বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপদেষ্টাঃ অহেদুজ্জামান, সহকারী অধ্যাপক (গণিত), চেয়ারম্যান, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, জেড এইচ সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় উপদেষ্টাঃ সনেট কুমার সাহা , সহকারী অধ্যাপক (পদার্থ বিজ্ঞান), চেয়ারম্যান, ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, জেড এইচ সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় উপদেষ্টাঃ মুহাম্মাদ আফসার উদ্দিন , সহকারী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, জেড এইচ সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় উপদেষ্টাঃ মোতালেব মিয়া, সহকারী অধ্যাপক, শহীদ সিরাজ সিকদার ডিগ্রি কলেজ বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি (২০২২-২০২৩): শরীয়তপুর ম্যাথ সার্কেল এর বর্তমান কার্যকরী পরিষদ এর সদস্যবৃন্দঃ ১। সভাপতিঃ ডি এম জাহিদুল ইসলাম ২। সাধারন সম্পাদকঃ আব্দুল্লাহ সাগর৩। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকঃ ফাইজুর রহমান মানিক৪। কোষাধ্যক্ষঃ মনকার আবেদিন মমো৫। সহকারী- কোষাধ্যক্ষঃ সাইফুল ইসলাম ৬। সাংগঠনিক সম্পাদকঃ১। সবুজ আহমেদ ২। ফাওজিয়া কবির লাবন্য ৭। মানবসম্পদ ব্যবস্থপনা সম্পাদকঃ আলামিন আকন্দ ৮। গবেষণা ও উদ্ভাবন সম্পাদকঃ রিদওয়ান৯। সৃজনশীল প্রক্রিয়া উন্নয়ন সম্পাদকঃ মোঃ আব্বাস উদ্দিন ১০। গণমাধ্যাম ও সাংবাদিকতা সম্পাদকঃ১। মোঃ লিমন আহমেদ২। তাউসিফুর রহমান মনির১১। প্রচার সম্পাদকঃ লাকী আক্তার ১২। সহকারী-প্রচার সম্পাদকঃ ১। বোরহান উদ্দিন ২। অরিন্দম সিং অভি৩। হানিফ বেপারি৪। রাকিব খান৫। কাকলি আক্তার১৩। ক্রিয়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদকঃ ১। ইশরাত মিম২। মাইমুন মেহেনুর৩। সুরমা খলিফা৪। রাফা হাওলাদার ৫। কানিজ ফাতেমা কনিকা ১৪। যোগাযোগ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদকঃ ইমতিয়াজ ১৫। পরিবহন ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ সম্রাট মিয়া ১৬। অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ ফারদিন শাকিল১৭। কার্যনির্বাহী সদস্যঃ১। মোশাররফ হোসেন রিগান২। রাকিব হোসাইন ৩। নিরব ৪। মশিউর রহমান ৫। শরীফ সারোয়ার সংবাদপত্রে শরীয়তপুর ম্যাথ অলিম্পিয়াড:
ভাষা সৈনিক গোলাম মাওলার স্মৃতিকে অম্লান রাখার জন্য এ গ্রন্থাগারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠাকাল ২০০৯ সাল। গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর তালিকাভূক্তিকরণ সনদ প্রাপ্ত হয় ২০১৩ সালের ০১ ডিসেম্বর। সনদ নং ০৮।
ভাষা সৈনিক গোলাম মাওলার সংক্ষিপ্ত জীবনী: (১৯২০-১৯৬৭) চিকিৎসক, ভাষা আন্দোলনের নেতা, রাজনীতিক। জন্ম ১৯২০ সালের ২০ অক্টোবর শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থানার পোড়াগাছা গ্রামে। তাঁর পিতা আলহাজ্ব আবদুল গফুর ঢালী এবং মাতা ছুটু বিবি।
গোলাম মাওলার শিক্ষা জীবন শুরু হয় জাজিরা উপজেলার পাচুখার কান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তিনি নড়িয়া বিহারী লাল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৩৯ সালে ম্যাট্রিক, ১৯৪১ সালে ঢাকার জগন্নাথ কলেজ থেকে আইএসসি এবং ১৯৪৩ সালে বিএস.সি পাস করেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূ-তত্ত্ব বিদ্যায় এমএসসি প্রথম পর্ব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি পাস করেন। তিনি ১৯৪৬ সালে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হন। দেশ বিভাগের পর তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে দ্বিতীয় বর্ষ এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হন এবং ১৯৫৪ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন।
ছাত্রাবস্থায় গোলাম মাওলা কলকাতায় মুকুল ফৌজের অধিনায়ক ছিলেন। তিনি ছিলেন নিখিল ভারত ছাত্র ফেডারেশনের সক্রিয় কর্মী। তিনি ১৯৫২ সালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।
গোলাম মাওলা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। ঐ বছরের ৩১ জানুয়ারি ঢাকা বার লাইব্রেরিতে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে গঠিত সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সদস্য ছিলেন তিনি। এ সময় তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ছিলেন। ১৯৫২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারিতে ১৫০ নম্বর মুগলটুলিস্থ পূর্ববঙ্গ কর্মশিবির অফিসে অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সভায় ২১ ফেব্রুয়ারি হরতালের মাধ্যমে রাষ্ট্রভাষা দিবস পালন এবং ২১ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি পতাকা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গোলাম মাওলা বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে সরকার এক মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে এবং সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এ ঘোষণার পরপরই গোলাম মাওলার নেতৃত্বে মেডিক্যালের ছাত্ররা একত্রিত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার এবং আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্র মিছিলে গুলিবর্ষণের পর আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণের জন্য আন্দোলনের অধিকাংশ নেতৃবৃন্দ রাতে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে মিলিত হন। এ বৈঠকে ছাত্র সংগ্রাম কমিটি নতুনভাবে গঠিত হলে গোলাম মাওলা কমিটির আহবায়ক নির্বাচিত হন।
মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণের যে যায়গায় প্রথম গুলি হয়েছিল ঠিক সে স্থানেই ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে গোলাম মাওলার সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয়।
ছাত্রজীবন শেষে গোলাম মাওলা মাদারীপুরে চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত হন। এ সময় তিনি আওয়ামী মুসলিম লীগে যোগ দেন। গোলাম মাওলা মাদারীপুর মহকুমা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি ১৯৫৬ সালের উপ-নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদের সদস্য এবং ১৯৬২ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে বিরোধী দলের হুইপ ছিলেন।
চিকিৎসক হিসেবে গোলাম মাওলা ছিলেন মানবতাবাদী ও নিবেদিত প্রাণ। গরীব রোগীদের তিনি বিনা পয়সায় চিকিৎসা করতেন। গোলাম মাওলা তাঁর উপার্জিত অর্থের অধিকাংশই ব্যয় করেছেন সংগঠন ও সেবামূলক কাজে। গোলাম মাওলা ১৯৬৭ সালের ২৯ মে মৃত্যুবরণ করেন।
গোলাম মাওলার স্মৃতি রক্ষার্থে নড়িয়া কীর্তিনাশা নদীর উপর নির্মিত সেতুটির নামকরণ হয়েছে ডাঃ গোলাম মাওলা সেতু এবং সম্প্রতি ঢাকার ধানমন্ডি ১ নম্বর সড়কের নতুন নামকরণ হয় ডা. গোলাম মাওলা সড়ক। গোলাম মাওলার গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ ভবন সহ তার বাড়ী সামনের তার সড়কটি তার নামে করা হ।য়। তথ্যসুত্র: বাংলাপিডিয়া।
লক্ষ্য: রক্তের অভাবে যেন একজন মানুষও মারা না যায়। সেই লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে চলেছে। রক্তদানের মাধ্যমে একজন মুমূর্ষু রোগী ও তার স্বজনের মুখে হাসি ফোটানোর মাঝেই প্রতিষ্ঠানের শান্তি খুঁজে পাই।
‘হাসবে রোগী বাঁচবে প্রান, করবো মোরা রক্তদান’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নানান আয়োজনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ব্লাড ট্রান্সফিউশন অর্গানাইজেশনের ৬ ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। ২০২২ সালের ৯ নভেম্বর বুধবার সকাল ১০ টার সময় সরকারি ডামুড্যা মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর র্যালী বের হয়ে ডামুড্যা বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার একই স্থানে এসে ৬ ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কর্তন ও আলোচনা সভা এবং সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
আলোচনা সভায় ব্লাড ট্রান্সফিউশন অর্গানাইজেশনের উপদেষ্টা, সরকারি আব্দুর রাজ্জাক কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ জহির উল্লাহ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডামুড্যা হামিদিয়া কামিল মাদ্রাসার সভাপতি খালেদ রহমান সিকদার এসময় উপস্থিত ছিলেন ডামুড্যা হামিদিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ তসলিম উদ্দিন, সরকারি ডামুড্যা মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ মজিদ খান, ডামুড্যা ১নং মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহিদুল ইসলাম,৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিক উল্লাহ বেপারী। আরো উপস্থিত ছিলেন ব্লাড ট্রান্সফিউশনের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য, মোঃ শাহিন বেপারী, রাজা বেপারী, মেহেদী হাসান রুবেল মাদবর, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খাইরুল হারিস পাপ্পু, বিএম আল আমিন,বর্তমান সভাপতি ইব্রাহীম মুন্ন, সাধারণ সম্পাদক নিপু দেওয়ান সহ ট্রান্সফিউশন অর্গানাইজেশন বিভিন্ন সদস্যবৃন্দ সহ প্রমূখ। ব্লাড ট্রান্সফিউশন অর্গানাইজেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খাইরুল হারিস পাপ্পু বলেন,আমরা চাই রক্তের অভাবে যেন একজন মানুষও মারা না যায়। সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে চলেছি। রক্তদানের মাধ্যমে একজন মুমূর্ষু রোগী ও তার স্বজনের মুখে হাসি ফোটানোর মাঝেই আমরা শান্তি খুঁজে পাই। সকলের সমর্থন ও সহযোগিতায় বাঁধনের কার্যক্রম আরও প্রসারিত হবে সেই প্রত্যাশা। ব্লাড ট্রান্সফিউশন অর্গানাইজেশন উপদেষ্টা ডামুড্যা ডামুড্যা হামিদিয়া কামিল মাদ্রাসার সভাপতি খালেদ রহমান সিকদার বলেন, ব্লাড ট্রান্সফিউশন অর্গানাইজেশন স্বেচ্ছায় রক্তদানকেন্দ্রিক একটি সংগঠন। তাদের মূল কাজ হচ্ছে মুমূর্ষু রোগীকে রক্তদানের মাধ্যমে বাঁচানো। পৃথিবীতে যতগুলো ভালো কাজ রয়েছে তার মধ্যে একটি অন্যতম ভালো কাজ হচ্ছে এই রক্তদান কার্যক্রম।