Author: bupadmin

  • ঘড়িসার ইউনিয়ন ও গ্রামের নামকরণের ইতিহাস

    ঘড়িসার ইউনিয়ন শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া ‍উপজেলার অর্ন্তগত একটি ইউনিয়ন।

    গ্রামসমুহের নামকরণ ও ঐতিহাসিক বিবরণঃ

    সুরেশ্বর গ্রামের বিবরণ:

    নামকরণ তথ্য: সুরেশ্বর শব্দের অর্থ ঃ lord of gods; Shiva; (শিব, মহাদেব) or Indra (ইন্দ”). সুরেশ্বরী . fem. Goddess Durga (দুর্গা) or Goddess Ganges (গঙ্গা)| সুর + ঈশ্বর মিলিত হয়ে সুরেশ্বর শব্দটি সম্পুর্ণ হয়েছে।
    বিবরণ:
    এ স্থানের নামে সবজি ডাটা “সুরেশ্বরী ডাটা” দেশ বিখ্যাত। পদ্মা পাড়ের টাটকা ইলিশ মাছ পাওয়া যায় তা খুব স্বাদের এবং দেশ বিদেশ খ্যাত।
    এ গ্রামের পাশ দিয়ে পদ্মা নদী প্রবাহিত, নদীর পাড়ে সুরেশ্বর বন্দর দেশ খ্যাত প্রাচীন নদী বন্দর ও জেলার
    শ্রেষ্ঠ নদী বন্দর। সুরেশ্বর নদীবন্দরের মাধ্যমে লঞ্চ, ট্রলার ও নৌকা যোগে জনগণ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন করে থাকে।
    এখানকার বিখ্যাত জান শরীফ হুজুরের মাঝারে প্রতি বছর শীতে ওরস হয়। দেশ বিদেশের বিভিন্ন লোক এ ওরসে অংশগ্রহণ করে থাকে। এটি সুরেশ্বর দরবার শরীফ নামে পরিচিত। সুরেশ্বর দরবার শরীফ শরীয়তপুর জেলা প্রশাসন কর্তৃক স্বিকৃত “দর্শনীয় স্থান। এ দরবার শরীফ জাতীয় ও আর্ন্তজাতিকভাবে পরিচিত।

    • চরমোহন
    • আদম মনিরাবাদ
    • ক্রোকিমনিরাবাদ
    • চরমোহন
    • হালইসার
    • গোয়ালবাথান
    • নন্দনসার
    • সিংহলমুড়ি
    • সুজাবাদ
    • বাড়ৈপাড়া
    • চরলাউলানী
    • বাহির কুশিয়া
    • আটপাড়া
    • রাহাপাড়া
    • ভিতর কুশিয়া
    • উত্তরপাড়া
  • মহিসার ইউনিয়ন এর নামকরণ ও গ্রামের নামসমুহ

    অবস্থানঃ শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার অর্ন্তগত  একটি ইউনিয়ন।
    ইউনিয়েনে অবস্থিত বিশালদিঘির পশ্চিম তীরে অবস্থিত দিগন্ত বিস্তৃত শাখা-বিশিষ্ট বট-অশ্বত্থ বৃক্ষযুগল পাদদেশে কোন তত্ত্বজ্ঞ-তান্ত্রিক সন্যাসী সুদীর্ঘকাল আদ্যাশক্তি মহামায়ার প্রতীক স্বরুপে কালী মায়ের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে অহর্নিশি সাধনা করতেন। ফলে এর আশে-পাশে জনবসতি গড়ে উঠতে থাকে। অনেক ব্রাক্ষ্মণ পরিবার এ পীঠস্থানের পাশে বসতি স্থাপন করে পীঠস্থানে নিয়মিত পূজা পার্বন করতে থাকেন। অবশেষে কোন এক সময় সেই তত্ত্বাজ্ঞ-তান্ত্রিক সন্যাসী সিদ্ধি লাভ করেন অর্থাৎ এ-পীঠস্থানেরই পার্শ্বের এক সাত্ত্বিক ব্রাক্ষণ পরিবারে শ্রীশ্রী দক্ষিণা কালী জন্মগ্রহণ করেছিলেন এক সুন্দরী কন্যারুপে। শৈশব থেকেই সে ছিল এক অপরুপ রুপবর্র্তী কন্যা। তিনি প্রত্যহ পীঠস্থানের বট-অশ্বত্থবৃক্ষযুগলের নিকটবর্র্তী পশ্চিম পাশ্বর্স্থ একটি ছোট পুকুরে (পীঠ স্থানের জিয়স পুকুর নামে খ্যাত) স্নান সম্পন্ন করে ধ্যানমগ্ন ঐ সন্যাসির নিত্যকর্মে সহযোগীতা দান করতেন। সন্যাসীও বেশ মুগ্ধ হতেন এবং আদর স্নেহে তাকে আকৃষ্ট করে রাখতেন। রুপবর্তী কন্যাটি মাত্র অষ্টম বর্ষে পদাপর্ণ করলে সেকালে রীতি অনুযায়ী পিতা তাঁকে বিয়ে দিতে চাইলে কণ্যা তাতে অসম্মতি জ্ঞাপন করে। তৎকালীন সামাজিক চাপে অসহায় পিতা হয়ে বর যোগাড় করে কনেকে পাত্রস্থ করতে মনস্থ করেন। নির্ধারিত বিয়ের তারিখের পূর্বের দিন দ্বি-প্রহরে কুমারী কন্য তাঁর আত্নীয়া মাঐমাকে সঙ্গে নিয়ে স্নানের উদ্দেশ্যে দিঘির ঘাটে যায়। কুমারী কন্যা একা-একাই স্বচ্ছসলিলা বিশাল দিঘিতে অবগাহন করতে এগিয়ে যায়। তার সংস্পর্শে দিঘির জল উত্তাল ও তরঙ্গময়ী হয়ে উঠে। কন্যাও তরঙ্গায়িত দিঘির জলের সঙ্গে খেলা করতে করতে মধ্য দিঘিতে চলে যায়।
    মাঐমা তাঁকে ফিরে আসার জন্য বারবার ডাকতে থাকেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা! সে মাঐকে নিরাপদ স্থানে থাকার জন্য উচ্চ স্বরে বলতে থাকে “মাঐ——সার,মা ঐ——-সার, বলতে বলতে কন্যাটি দিঘির অতল জলে তলিয়ে বিলিন হয়ে গেল। মাঐমা চিৎকার দিতে দিতে বাড়িতে গিয়ে অলৌকিক ঘটনাটি বিয়ে বাড়ীর সবার কাছে প্রকাশ করলেন। শোনার সঙ্গে সঙ্গে সবাই চলে এসে শত চেষ্টা করেও দিগম্বরীর সন্ধান পাওয়া গেলনা। বিবাহোৎসব মূখরিত ব্রাক্ষ্মণ পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। উল্লেখ্য যে, জন্ম থেকে অষ্টম বর্ষ পর্যন্ত এ কুমারী কন্য ন্যূনতম লজ্জা নিবারণ ব্যতীত কোন বস্ত্র পরিধান করে নি। তাই সকলে তাঁকে দিগম্বরী নামে ডাকতো। বিয়েরদিন প্রাতঃকালে জনৈক শাঁখারী মশাই যাচ্ছিলেন সাধকের সাধনস্থল নির্জন অশ্বত্থ-বটবৃক্ষের তলাদিয়ে ঐ বিয়ে বাড়ীতে , প্রচলিত রীতি অনুযায়ী কনেকে বিবাহপূর্ব শাঁখা পরাতে। ঐ সময় অশ্বত্থ-বট বৃক্ষ-যুগলাভ্যান্তর থেকে এক মানব কন্ঠস্বর ভেসে এলো ‘শাখারী মশাই, আমাকে শাঁখা পরিয়ে দিন’। এই বলে বৃক্ষ যুগল্যা অভ্যন্তর থেকে দুটি নারী হস্ত কে যেন এগিয়ে দিলেন শাঁখারী মশাইয়ের হাতে শাঁখা পরাবার জন্য।
    ভীতসন্ত্রস্ত শাঁখারী মশাই দুঁটি কোমল হস্তে শাঁখা পরিয়ে দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে একটি ভাষ্য এলো- আমিই বিয়ে বাড়ীর কুমারী কণ্যা-দিগম্বরী। আমার বাবার কাছ থেকে শাঁখার মুল্য চেয়ে নিয়ে যাবেন।’ একথা জানাজানি হবার পর সন্যাসী গভীর নিশিথে ধ্যানমগ্ন হয়ে আদ্যাশক্তি মহামায়ার লীলা অবলোকন করতে পারলেন। দিনটি ছিল শুভ নববর্ষ পহেলা বৈশাখ।
    “মাঐ——সার,মা ঐ——-সার, থেকেই মাঐসার, মাঐসার থেকে পরিবর্তিত হয়ে মহিসার নাম ধারণ করে।
    মহিষার এর নামকরণ নিয়ে আরো একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে মহিষ হতে মহিষার নাম এসেছে মর্মে প্রতীয়মান হয়। তৎকালে মাদারীপুর-শরীয়তপুর জেলায় প্রচুর মহিষ ছিল। সবচেয়ে ভাল জাতের মহিষ ছিল মহিষার এলাকায়। শুধু মহিষ নয় এ এলাকায় প্রচুর ষাড়ও ছিল। মহিষ ও ষাড় হতে মহিষার নাম হতে পারে।
    বর্তমানে মহিষার নাম হলেও বিভিন্ন সময় এর নাম বিভিন্ন ছিল যেমন মাঐসার, মহিষার মহিসার, মহীসার, মহিশার।
    মহিষার ইউনিয়ন এর গ্রাম সমুহের নামকরণ
    • মহিষার
    • পুটিজুরী
    • কাইচকুড়ি
    • সাজনপুর
    • ইসলামপুর
    • পশ্চিম ধনই
    • পম
    • মির্জাপুর
  • শরীয়তপুর জেলা ও এর উপজেলার নামকরণের ইতিহাস

    ইতিহাস সমৃদ্ধ বিক্রমপুরের দক্ষিণাঞ্চল এবং প্রাচীন বরিশালের ইদিলপুর পরগণার কিছু অংশ নিয়ে বর্তমান শরীয়তপুর জেলা গঠিত। বাংলাদেশের মুক্তির সংগ্রামে শরীয়তপুরবাসীর ভূমিকাও উল্লেখযোগ্য। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে জেলাটি ফরিদপুরের মাদারীপুর মহকুমার অন্তর্ভূক্ত ছিল। ১৯৭৭ সালের ৩ নভেম্বর বিশিষ্ট সমাজ সংস্কারক ও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা হাজী শরীয়ত উল্লাহর নামানুসারে শরীয়তপুর নামকরণ করা হয়।
    শরীয়তপুর জেলায় মোট ৬ টি উপজেলা রয়েছে : শরীয়তপুর সদর, জাজিরা, নড়িয়া, ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা, ও গোসাইরহাট।
    শরীয়তপুর সদর উপজেলাঃ
    ইতিহাস সমৃদ্ধ বিক্রমপুরের দক্ষিণাঞ্চল এবং প্রাচীন বরিশালের ইদিলপুর পরগণার কিছু অংশ নিয়ে বর্তমান শরীয়তপুর জেলা গঠিত। বাংলাদেশের মুক্তির সংগ্রামে শরীয়তপুরবাসীর ভূমিকাও উল্লেখযোগ্য। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে জেলাটি ফরিদপুরের মাদারীপুর মহকুমার অন্তর্ভূক্ত ছিল। ১৯৭৭ সালের ৩ নভেম্বর বিশিষ্ট সমাজ সংস্কারক ও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা হাজী শরীয়ত উল্লাহর নামানুসারে শরীয়তপুর নামকরণ করা হয়।

    জাজিরা উপজেলাঃ
    জাজিরার নামকরন সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোন তথ্য জানা নেই। জাজিরা মুলত পদ্মা নদীর একটি চর। আরবিতে জাজিরা جزيرة অর্থ- দ্বীপ। এ শব্দ হতেই পূরোনো যুগের কোন মুসলিম নেতা এর নাম লিখেছিলেন মর্মে কথিত আছে। আরবী ভাষায় দ্বীপকে বলা হয় জাজিরা। দ্বীপ আর চরকে সমার্থক ভেবে ভুমি জরিপের সময় হয়তো জাজিরা নামে চিহ্নিত করা হয়েছে।
    নড়িয়া উপজেলাঃ
    উপজেলাটির উত্তরে পদ্মা নদী ও মুন্সিগঞ্জ জেলা দক্ষিণে ভেদরগঞ্জ ও শরীয়তপুর সদর উপজেলা ও জাজিরা উপজেলা দ্বারা বেষ্টিত।নড়িয়া উপজেলার নামকরণ সম্পর্কে কোন সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি । নদী বিধৌত এলাকা বলে প্রতিবছর এর আয়তন স্থানান্তরিত হয়ে পড়ত। অর্থাৎ এর অবস্থান নড়ে যেত বা নইরা যেত। আঞ্চলিক উচ্চারণে নইরা থেকে নইরা<নৈরা<নরিয়া<নড়িয়া নামকরণ হতে পারে বলে ধারণা করা যায়।তবে কথিত আছে নড়িয়া নামক এক বিরাট মৌজার নামানুসারেই উপজেলার নামকরণ নড়িয়া করা হয় ।
    ভেদরগঞ্জ উপজেলাঃ
    ভেদরগঞ্জ এর নামকরন নিয়ে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন মতামত রয়েছে।
    প্রথমত, প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব বিক্রমপুর পরগনার জমিদার ভেদার উদ্দিন ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে এই এলাকার সফরে আসেন এবং এই সৈয়দ ভেদার উদ্দিন শাহের প্রয়াসে ভেদরগঞ্জ থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। তার নামানুসারেই ভেদরগঞ্জ এর নামকরন করা হয়। উল্লেখ্য যে ভেদরগঞ্জ এক সময় ভেদার উদ্দিন শাহ এর জমিদারী এলাকার অন্র্তগত। দ্বিতীয়ত, ভেদরগঞ্জের নামকরন নিয়ে আরো একটি প্রবাদ আছে। এই প্রবাদ কাদা প্রবাদ নামে পরিচিত । ‘ভেদর’ শব্দের অর্থ কাদা। একসময় এই এলাকায় প্রচুর কাদা ছিল। কাদার জন্য মানুষের হাটা চলার ব্যঘাত ঘটত। তাই এই এলাকার নাম একে একে জনমুখে ভেদরগঞ্জ নামের পরিচিতি লাভ করে।
    তৃতীয়ত, অনেকের মতে, এই এলাকায় প্রচুর বেদে ছিল। নদীর পাড়ে সবসময় অসংখ্য বেদে বহর থাকত। তাই এই এলাকার নাম ভেদরগঞ্জ হয়েছে। আধুনিক গবেষণায় প্রবাদ দুটি নিছক প্রবাদ বলে প্রতিয়মান হয়েছে।মুলত ভেদার শাহ এর নাম হতে ভেদরগঞ্জ নামের উৎপত্তি। বর্তমানে ভেদরগঞ্জ নামে প্রচলিত হলেও বিভিন্ন সময় এর নাম বেদেরগঞ্জ, ভেদেরগঞ্জ,ছিল।




    ডামুড্যা উপজেলাঃ
    এক সময়ে তৎকালীন মাদারীপুর মহকুমার বিখ্যাত বাংলা কবি নবীন চন্দ্র সেন মহকুমা প্রশাসক ছিলেন। নবীন চন্দ্র সেনের আমন্ত্রণে ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর একদা মাদারীপুর সফরে এসেছিলেন এবং মাদারীপুর হতে নবীন চন্দ্র সেনের সাথে বর্তমান ডামুড্যা সফরেও আসেন। ডামুড্যার পূর্ব পাশের নদী তৎকালীন ভারতের দামোদর নদীর মতো ক্ষীপ্ত ছিল। ঈশ্বার চন্দ্র বিদ্যাসাগর বলেছিলেন এই নদী দামোদর নদীর মত। এই নদী সাঁতার দিয়ে বিদ্যাসাগর মায়ের সাথে দেখা করতে যেতেন। কারণ বিদ্যাসাগরের খেঁয়ার পয়সার অভাবে সাঁতার কেটে মাকে দেখতে যেতে হতো। এই কথা শুনে মহকুমা প্রশাসক নবীন চন্দ্র সেন বিদ্যাসাগরের সম্মানে এই এলাকার নাম রাখেন দামোদর। দামোদর শব্দের একটি অর্থ পবিত্র জল। হিন্দু বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ দেবতা বিষ্ণুর একটি নাম দামোদর। হিন্দু ধর্মে আছে- দমের দ্বারা যিনি উচ্চস্থান পাইয়াছেন, তিনিই দামোদর। বেদে আছে, বিষ্ণু তপস্যা করিয়া বিষ্ণুত্ব লাভ করিয়াছেন, নহিলে তিনি ইন্দ্রের কনিষ্ঠ মাত্র। শঙ্করাচার্য দামোদর শব্দের অর্থ গ্রহণ করিয়াছেন। তিনি বলেন, “দমাদিসাধনেন উদরা উৎকৃষ্টা গতির্যা তয়া গম্যত ইতি দামোদরঃ।” মহাভারতেও আছে, “দমাদ্দামোদরং বিদুঃ।” তবে এর সাথে ডামুড্যার দামোদর নদীর কোন সম্পর্ক আছে কিনা তা ইতিহাসে উল্লেখ নাই। তাই আঞ্চলিক উচ্চারণে দামোদর> দামোদরিয়া > ডামুদিয়া >ডামুড্যা নাম ধারণ করছে।
    যে মৌজার পাশ দিয়ে দামোদর প্রবাহিত হতো তাকে বলা হতো ডামুড্যা। ঐ মৌজার নামানুসারে পরবর্তীতে এ জনপদের নাম হয় ডামুড্যা।
    গোসাইরহাট উপজেলাঃ
    বাংলার শেষ নবাব সিরাজ উদ্দৌলার পতন মুহূর্তে যখন ইংরেজদের আগমন প্রায় নিশ্চিত কথিত আছে যে, তখন বর্তমান গোসাইরহাট থানার মূলগাঁও গ্রামটির নিকট ব্রহ্মনন্দ গিরি নামে এক সাধু বাস করতেন। লোকে তাকে ‘গোসাই’ নামে ডাকতেন। স্নানীয় অনেকের ধারণা এ গোসাই হতেই গোসাইরহাট নামকরণ করা হয়েছ।

  • নড়িয়া উপজেলার নামকরণের ইতিহাস ও ঐতিহাসিক বিবরণ

    বর্তমান অবস্থান: শরীয়তপুর জেলার অন্যতম প্রখ্যাত উপজেলা। জেলা শহর হতে প্রায় ১৪ কিঃমিঃ উত্তর পূর্বে নড়িয়া অবস্থিত । ভৌগলিকভাবে ২৩.১৪ ডিগ্রী হতে ২৩.২৫র্ ডিগ্রী উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০.১৮ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে এর অবস্থান। উপজেলাটির উত্তরে পদ্মা নদী ও মুন্সিগঞ্জ জেলা দক্ষিণে ভেদরগঞ্জ ও শরীয়তপুর সদর উপজেলা ও জাজিরা উপজেলা দ্বারা বেষ্টিত।

    নামকরণের ইতিহাস: নড়িয়া উপজেলার নামকরণ সম্পর্কে কোন সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি । নদী বিধৌত এলাকা বলে প্রতিবছর এর আয়তন স্থানান্তরিত হয়ে পড়ত। অর্থাৎ এর অবস্থান নড়ে যেত বা নইরা যেত। আঞ্চলিক উচ্চারণে নইরা থেকে নইরা<নৈরা<নরিয়া<নড়িয়া নামকরণ হতে পারে বলে ধারণা করা যায়।তবে কথিত আছে নড়িয়া নামক এক বিরাট মৌজার নামানুসারেই উপজেলার নামকরণ নড়িয়া করা হয় ।
    নড়িয়া প্রথমে থানার রুপ নেয় ১৯৩০ সালে । ১৯৮৩ সালের ১লা আগষ্ট নড়িয়া উপজেলায় রুপান্তরিত হয় । উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তৎকালিন খাদ্য মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল এজি মাহমুদ ।
    এখানকার জনসাধারণের প্রধান জীবিকা কৃষি হলেও ব্যবসা, সরকারী বেসরকারী চাকুরী, কামার, কুমার, কুটির শিল্প সম্প্রদায়ের বহু লোক এখানে বাস করে । এছাড়া এ উপজেলায় প্রায় ৩০,০০০ (ত্রিশ হাজার) লোক ইতালী, মধ্যপ্রাচ্য সহ বিশ্বের নানা দেশে কর্মরত আছেন। প্রচুর রেমিটেন্স দেশে প্রেরণ করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন।